Posts

Showing posts from December, 2021

তোমার আমার উপলব্ধি

Image
রাত এগারোটার দিকে উত্তরার ভাড়া বাড়ির সামনে বয়ফ্রেন্ড তামিমের বাইক থেকে নামলো রুমানা। পাঁচ দিনের কক্সবাজার ভ্রমণ শেষ করে তারা মাত্রই ঢাকায় ফিরেছে।  বাইক থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তামিম বললো,  - এভাবে আর কতো রুমানা? এবার বিয়েটা তো করে ফেলা দরকার তাই না?  দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল রুমানা, দুই বছর আগে দাদা-দাদী ইমোশনাল কথাবার্তা বলে তাকে গ্রামের একটা ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিল। ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বিপদে পড়েছিল রুমানা। মা-বাবা হারা এই নাতনীকে তারা বিয়ে দিয়েছেন পাশের গ্রামের সবচেয়ে ভদ্র ছেলে মামুনের সঙ্গে। মামুন পড়াশোনা শেষ করে সেই গ্রামের মধ্যেই একটা স্কুলে শিক্ষকতা করে।  রুমানাে দাদার ছাত্র ছিল মামুন। ছোটবেলায় বাবা মা মারা যাবার পর গ্রামের মধ্যে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করে রুমানা৷ তারপর ঢাকা এসে ভর্তি হয়েছে অনার্সে। এরপর থেকে জীবন যাত্রার মান অবনতি ঘটেছে রুমানার। দাদা-দাদীর ধারণা ছিল বিয়ে হলে মোটামুটি ঠিক হয়ে যাবে।  কিন্তু রুমানা বেশ চতুর। দাদা-দাদীর কথার কাছে পরাজিত হয়ে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যায়। আর বিয়ের সপ্তাহ খানিক পরেই কৌশলে শহরে চলে আসে রুমানা। দাদ...

বদলি

Image
বদলি👥 পৃথিবীটা খুব ছোট, ঘুরতে ঘুরতে কখনো কখনো এমন কিছু জায়গায় আমরা এসে পড়ি, যেখানে অন্তরআত্না কখনোই যেতে চায় না।  মানুষকে তো পিছে ফেলে চলে আাসা যায় আচ্ছা স্মৃতি কেনে ফেলে আসা যায় না? শহর টা আমার প্রাক্তন প্রেমিকার। চাকরি সুত্রে দীর্ঘ সাত  বছর পরে আবার ও ফিরে আসা। স্কুল কলেজ সহ জীবনের দীর্ঘ একটা অধ্যায় কেটেছে এই শহরে। অলি-গলির প্রতিটা রাস্তার ধুলোয় আজো আমার আর নীলার পদছায়া বিলীন হয় নি। কত স্মৃতি এখানেই আমাদের সেই আমাকে কি না বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হলো? 'প্রিয় আকাশনীলা;তুমি হয়তো জেনে খুশি হবে আমি তোমার শহরে আগন্তুক হয়ে আবারো ফিরে এসেছি'  দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ডেক্সে বসে কেস নাম্বার ১০৫ ওপেন করলাম।  এটেম্প টু মার্ডার কেস এর মামলা, যেটা একজন স্বামী তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্য করেছে । বেশ অবাক হলাম মেডিকেল সার্টিফিকেটে স্পষ্ট লেখা ৩মাসের বাচ্চাটার নিউমনিয়ায় মৃত্যু তবুও কি করে এমন অভিযোগ কেউ আনতে পারে? কেসটা দমে না টিকলেও চার্জশিট এই মূর্হতে আমার হাতে। অপমৃত্যু'র কেস দিলেও তা হয়তো মানা যেতো কিন্তু সরাসরি মার্ডার কেস এনেছে জানাব সিহাব তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।  মামলার তদন্ত স্বার...

ভুল সিদ্ধান্ত

Image
১৩-০৭-১৯৯৭ শাশুড়ী আম্মা আমার হাতটা ধরে বললেন,  - মানুষের সংসারে এমন রাগারাগি হয়েই থাকে, তাই বলে নিজের সংসার ছেড়ে কেউ চলে আসে বৌমা?  - আম্মা আপনি সবকিছু জানেন না তাই এভাবে কথা বলতে পারেন, কিন্তু আমার পক্ষে সত্যি আর সম্ভব না।  - আমি নিজে থেকে তোমাকে নিতে আসছি, তুমি কি যাবে না আমার সঙ্গে?  - আম্মা আমি আপনাকে নিজের মায়ের মতো সম্মান করি, আপনার কথার অবাধ্য হবার শক্তি নেই। কিন্তু এমন কোনো কথা বলবেন না যেটা রক্ষা করা আমার দ্বারা অসম্ভব। তাহলে মনে মনে আমিও কষ্ট পাবো, আর আপনি ও আঘাত পাবেন। - তোমাদের আসল সমস্যাটা কি জানতে পারি?  - আপনার ছেলের কাছেই জেনে নিয়েন, অন্তত এটুকু জেনে রাখতে পারেন যে আমি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে স্বামী সংসার ত্যাগ করিনি।  - আল্লাহ তোমাদের একটা ছেলে দিয়েছে, নাতিটার মুখের দিকে তাকিয়ে নাহয় ফিরে চলো।  - ওকে আমি নিজেই মানুষ করতে পারবো আম্মা। আপনার যখনই দেখতে ইচ্ছে করবে আপনি চলে আসবেন। আর বড় হলে আপনার নাতি নিজেও গিয়ে আপনাদের বাড়িতে ঘুরে আসবে।  - তুমি কি সত্যিই আর কোনদিন যাবে না?  - না আম্মা।  - আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে আমি এখন যাই। বাড়িতে গ...

কাঁদা মাখানো লাল জামা

Image
বস্তি থেকে বের হবার সময় মরিয়মের দিকে তীব্র লালসার চোখে তাকিয়ে থাকে দোকানদার আজমল। স্বামী ছাড়া মরিয়মের উপর তার নজর অনেক দিন আগে থেকে নিবদ্ধ। কিন্তু মরিয়ম তাকে একদমই পাত্তা দেয় না বরং সবসময় তাকে এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করে।  - কি ব্যাপার মরিয়ম কোই যাও?  চুপচাপ হাটে মরিয়ম। তারপর আজমল আবার বলে,  - বাসায় কাজ করতে যাও বুঝি? তোমাকে তো কতবার বললাম আমার ঘরে আসো, বাসায় আর কাজ করতে হবে না। তোমার মেয়ে আর তোমার দুজনের দায়িত্ব আমি নেবো।  কোনকিছু না বলে চুপচাপ হেঁটে চলে যায় মরিয়ম। সে জানে এই লোকের সঙ্গে কথা বলার কোনো অর্থ নাকি। সবসময় এমন করে কথা বলা লোকটা অভ্যাস করে ফেলেছে।  ★★ থালাবাসন সবগুলো ধোয়া শেষ করে মরিয়ম তার মালিকের কাছে গিয়ে বললো,  - আপা আমি তাহলে আসি? "  কর্ত্রী একটা প্যাকেট হাতে দিয়ে বললো, - তোমার মেয়েকে ঈদের দিন পরতে দিও, বাচ্চা মানুষ খুব খুশি হবে।  মরিয়মের চোখ উজ্জ্বল হয়ে যায়। সে জানে যে গতকাল এরা সবাই শপিং করেছে, কিন্তু তার মেয়ের জন্য কিছু কিনে আনবে ভাবতে পারেনি। মরিয়ম এ বাড়িতে কাজ করে মাত্র মাস খানিক ধরে। এর আগে অন্য বাড়িতে কাজ করতো।  আনন্দ নিয়ে সে...

ভালো থেকো

Image
- চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আমার স্বামী বললো, বিয়ের পূর্বে তোমার বয়ফ্রেন্ড ছিল আগে বলোনি তো। তাও আবার তিন বছরের কঠিন প্রেম, আচ্ছা তুমি তাকে রেখে আমাকে বিয়ে করলে কেন?  আমি তখন কি বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে আবার মাথা উঁচু করে তার দিকে তাকিয়ে দেখি সে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে। মাত্র তিনমাস আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে, আমি চাইনি আমার অতীত সে জানুক। এর প্রধান কারণ ছিল, যে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে ইচ্ছে ছিল না।   আমি আস্তে করে বললাম,  - আমার কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি তাই আর বলিনি, তাছাড়া আপনি প্রথম রাতেই বলেছিলেন যে জীবন নতুন করে শুরু করেছি। তাই সবকিছু যেন নতুন করে ভাবতে পারি।  - আচ্ছা সমস্যা নেই, আজকে হঠাৎ করেই জানতে পারলাম তাই তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম। এসব নিয়ে আর কথা না বলাই ভালো।  - ঠিক আছে।  - তোমার হাতের কাজ শেষ হয়েছে?  - হ্যাঁ।  - তাহলে ফ্রেশ হয়ে আসো ঘুমিয়ে পড়ি। আগামীকাল সকালে সাতটার দিকে তুলে দেবে, জরুরি একটা কাজ আছে হাসপাতালে।  - আপনি তো ফজরের নামাজ পড়ে হাঁটতে বের হন, কালকে হয়তো হাঁটতে হাঁটতেই সাতটা বেজে যাবে।...

তুমি এসেছো বলে

Image
মারিয়া আমার দিকে ভ্রু কুচকে বেশ অনেকক্ষন ধরে তাকিয়ে আছে ,অবশ্য সে আমার উপর রেগে আছে তা আমি বেশ বুঝতে পারছি কিন্তু কিছু বলছি না । কেননা আমি চাচ্ছি সে আরো একটু রেগে যাক। বেশি রাগলে রাগ থামানো সহজ হয়, অল্প রাগে ভালোবাসা,অভিমান,রাগ,সোহাগ,আল্লাদ টা বেশি থাকে তাই সেই রাগ টা ভাঙ্গানো আমার জন্য বেশ কষ্টসাধ্য  ।আমি পকেট থেকে তার সবচেয়ে অছন্দের সিগারেট টা বের করে ধরিয়ে দিলাম, এখন সে ফুসছে রাগে । ঠিক তার পর পর ই রাস্তা দিয়ে যাওয়া একটা মেয়ে কে দেখে বললাম  - হেই মিস ! আপনাকে কিন্তু হলুদ শাড়ীতে অসাধারণ লাগবে তা কি আপনি জানেন ? - আমাকে বলছেন ? - আশেপাশে হলুদ সুন্দরী তো আপনি একাই আছেন।  - এটা ছিল র্ফ্লাট ছিল ? - যদিও জটিল প্রশ্ন কিন্তু সহজ উওর । - তা সেই উওর টা কিহ ! - আমার উওর শুনে হলুদ সুন্দরী আরো বেশি ই হলুদ হয়ে যেতে পারে তাই না বলাই শ্রেয় । - উম, ইন্টারেস্টিং !!!!! হঠাৎ পাশ থেকে মারিয়া চিৎকার করে বলে উঠলো - এই মেয়ে এই যান তো এখান থেকে, বেয়াদব কোথাকার । - আপনি কে আর এমন করে কথা বলছেন কেন ! আমি তো আপনাকে কিছু বলি নি । - তুই যাবি নাকি আমি তোরে মেরেই ফেলবো এতটুকু বলতে বলতে মারিয়া মেয়েটার...

বিয়ে হচ্ছে

Image
-ওদিকটায় যাবেন না। -কেন? -ওদিকের রেলিংটা ভাঙা।পড়ে যেতে পারেন। -পড়ে গেলে আপনি ধরবেন না?ধরবেন না আমাকে? -ধরাবো।যান।    মিহিনের কথায় আমি আর কিছু বলি না।মুচকি হেসে অন্যদিকে পা বাড়াই।মিহিনও আসে,আমার সাথে।একটু এগিয়ে আস্তে করে বলি, -এদিকটার রেলিং ঠিকঠাক? আমার কথায় মিহিন মুচকি হাসে।মাথা নাড়িয়ে বলে, -হু ঠিকঠাক।    দুজনের মাঝে আবারও নীরবতা।ঝিরিঝিরি বাতাসে শীতের স্পন্দন।যেন ডাকছে নতুন জায়গায়, নতুন আবহাওয়ায়।এই ঝিরিঝিরি বাতাসের মাঝেই মিহিন নীরবতা ভেঙে বলে, -মনে হচ্ছে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছেন আমাকে? মিহিনের কথায় আমি নরম গলায় বলি, -কিভাবে বুঝলেন? -মেয়ে দেখতে এসে কেও এভাবে চুপচাপ থাকে আমি কখনও দেখিনি।ছেলে মেয়েকে আলাদা কথা বলতে দেওয়া হয় তাদের নিজস্ব কিছু আলাপ আলোচনার জন্যেই।এই যেমন আমি আর আপনি। দাঁড়িয়ে আছি।দুজন অচেনা মানুষ।অজানা কিছু জানতে।   মিহিনের কথায় আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি।নরম গলায় বলি, -আপনার বয়ফ্রেন্ড আছে? আমার প্রশ্নে মিহিন আমার দিকে ভ্রু কুচকে তাকায়।একটু চুপ থেকে আস্তে করে বলে, -মেয়ে দেখতে এসে এসব প্রশ্ন কেও করে!জানা ছিল না। -আজ তো জানলেন। -হু। -বলুন তাহলে। -হ্যা, আছে। ...

গিগলিত জোসনা

Image
বিগলিত  জোছনা    একটি ব্যবসায়িক কাজ সেরে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে ঢাকা ফিরছিলাম । আখাউড়া জংশনে এসে ট্রেনটি যে থেমে রইল, ঢাকার দিকে আর আসছিল না। জানা গেল  ভৈরব ব্রিজের কাছে লাইনের রিপিয়ারিং-এর কাজ চলছে। ট্রেন ছাড়তে এক-দুই ঘণ্টা দেরি হবে। আমি কামরা থেকে নেমে প্লাটফর্মের উপর হাঁটতে থাকি এলমেল। একসময় হেঁটে  পূর্ব দিকে শেষ মাথা পর্যন্ত চলে যাই। সেখানে একটি টং চার দোকান দেখতে পাই। কাঠের বেঞ্চটা খালি। কেউ নেই।  আমি ওখানে বসে চা খেতে থাকি। চা খেয়ে একটা সিগারেট ধরাই। ঠিক তখনই একটি লোক এসে বেঞ্চে বসে। সেও চার অর্ডার দেয়। লোকটি আমাকেও চা অফার করে। আমি বলি, খেয়েছি। ধন্যবাদ। লোকটিও সিগারেট খায়। আমাকেও সিগারেট অফার করে। আমি এবার সিগারেট নেই। যদিও একটু আগে একটি খেয়ে শেষ করেছি। সিগারেট পরপর তিন-চারটা স্টিক পর্যন্ত খাওয়া যায়। এইরকম এর আগে বহু খেয়েছি। লোকটা  আগ বাড়িয়ে একটু বেশি কথাই বলছিল। সে বলছিল -- আপনার বাড়ি কোথায়? কী করেন?  বললাম -- ময়মনসিংহের গৌরিপুর। ব্যবসা করি। কিন্তু  আমার জানতে ইচ্ছে করেনি ওনার বাড়ি কোথায়? তবুও জেনেছিলাম -- ওনার বাড়ি  কিশোরগঞ্জের...

বেলা শেষে

Image
"নীল দা কালই বিয়ে, আমার হবু বর নাকি  বিশাল জমিদার । যদিও আমি তার প্রথম স্ত্রী নয় তৃতীয়। মা বলেছে, এইসব জমিদারের নাকি তিন চারটা বউ থাকে।" . ভোর হতে আর দেরি নেই। সবাই যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন...  ঠিক সেই সময় ঘরের জমাট বাঁধা অন্ধকারকে নাম মাত্র কাটানোর অাপ্রাণ প্রচেষ্টায় মেতে আছে একটা মাটির প্রদীপ। আর তাতেই ঘরের খানিকটা অংশ আবছা আলো আধারে ছেয়ে যাচ্ছে। ম্লান লালচে আলোতে দেখা যাচ্ছে দুইজন মানুষ। একজন আপাদমস্তক কালো কাপড়ে ঢাকা মেয়ে আরেকজন ছেলে। পরনে সাদা ফতুয়া। আলোর ঠিক বিপরীতে দাড়িয়ে থাকায়  মেয়েটা খুব ভালো মত চোখে ধরা না পড়লেও ছেলেটির পরনের সাদা ফতুয়াটা বাতির আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এবার ধরা মিহি গলায়  ভেসে আসলো একটা মেয়েলী কণ্ঠস্বরে ভেসে আসলো কথাগুলো। উত্তরে পুরুষ কন্ঠ বলে উঠলো,  . - আর কিছু বলেনি? . - এমন ঘরে বিয়ে হচ্ছে এটা নাকি আমার  আগের জন্মের  কোনো পূণ্যের ফল। সকাল বিকাল প্রার্থনা করতে বলেছে যেন বিয়েটা হয়। তুমি কিছু বলবে না নীল দা? . - ভালো থাকিস। - আর কালকে? - শহরে চলে যাচ্ছি, সকালের ট্রেন। - আমার কোনো উপায় না করেই চলে যাবে তুমি?  - মেয়ে হলে নাম রাখ...

অপরিচিতার গল্প

Image
#অনুগল্প  #অপরিচিতা  #Tahmina_Akther  চারদিকে অনেক মানুষের কোলাহল, বাচ্চাদের আনাগোনা, একদল ছেলেমেয়ে অন্যদলের ছেলেময়ের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েছে। হয়তো কেউ তাদের মন মতো টাকা পাচ্ছে না তাই। বিয়ে বাড়িতে এই একটা সমস্যা গেটে ঢুকতে এক প্যাচাল আবার খাওয়া শেষে হাতে ধুতে গেলে এক প্যাচাল। সর্বশেষ কনের ও তার পরিবারের কান্নাকাটি দিয়ে এই বিয়ে নামক অদ্ভুট প্যাচাল সমাপ্ত হয়। উফফ, মানুষ যে কেন বিয়ে করে বুঝে আসে না!  কথাগুলো বলছে আর বিরক্তবোধ করছে আবির। সে তার বন্ধুর বিয়েতে খুলনা এসেছে। কিন্তু, সে এলেও তার ভালো লাগছে না কারণ সাথে তার মামাতো বোন টিয়া এসেছে যে কি না সূদুর আমেরিকা থেকে এসেছে। তার বন্ধুর বিয়ে সে এখানে মজমাস্তি করবে তা না সাথে এই উল্লুকটা এসে পড়েছে।  -এই আবির ভাই তুমি ওখানে একা দাড়িয়ে আছো কেন?  এদিকে এসো।  হাত নাড়িয়ে আবিরকে ডাকছে টিয়া। কিন্তু, আবিরের এতে কোনো ভাবান্তরই নেই। সে বসে আছে।  আবিরের এরকম আচরণে টিয়া বেশ কষ্ট পেলো।  সে কখনো গ্রামের বিয়ে দেখেনি কিন্তু যখন শুনতে পেলো তার আবির ভাই খুলনা যাবে তার বন্ধুর বিয়েতে তখন সে এখানকার বিয়ে দেখার লোভ সামলা...

কিছু আড়ালের কথা

Image
- আমি বললাম, আপনার মুখটা একটু দেখাবেন? আজ পর্যন্ত আপনার মুখ দেখতে পারিনি।  - শুধু চোখ দেখে প্রেমে পড়ে গেলেন?  - আপনি যেমন শান্তশিষ্ট ভাবে বসে থাকেন তাতে ভালো করে দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হবে।  - আপনি মুগ্ধ হয়েছেন?  - অনেক। নাহলে কি প্রতিদিন অফিস শেষ করে এখানে আসতাম নাকি?  - আমি প্রতিদিন বিকেলে এসে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থাকি, ভালো লাগে।  - জানি আমি।  - কোনদিন নিজ থেকে কথা বলেননি কেন? আজ যদি আমি না ডাকতাম তাহলে তো মনে হয় কথা হতো না তাই না?  - তা ঠিক। - আমার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছু জানেন?  - না, এখানে এসে দেখি এতটুকুই। সন্ধ্যা বেলা আপনি যখন চলে যান তখন আমি মসজিদে যাই নামাজ পড়তে।  - আপনি কি জানেন যে আমি মাঝে মাঝে নামাজ শেষ হওয়ায় আগ পর্যন্ত বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকি।  - কোই দেখিনি তো।  - আজকের পর থেকে আমাদের যদি আর দেখা নাহয় তাহলে কি হবে?  - দেখা হবে না কেন?  - যদি...  - মন খারাপ হবে।  - আমি প্রতিদিন এখানে এসে বসে থাকি এটার পিছনে একটা বিশাল কারণ আছে। জানেন?  - না, জানতে পারি?  - হ্যাঁ পারেন। চলেন হাঁটতে হাঁটতে ...

অন্যরকম ভালোবাসা

Image
এসি রুমে বসে ও ঘামছি বুকের ভিতর টিপ টিপ করছে না জানি কি হয়।জিহাদ ভাই রুমে ডুকে আওয়াজ করে দরজা বন্ধ করে দেয়।আমি আরও ভয় পেয়ে যায়। জিহাদ ভাই আমার কাছে এসে বলে -এই তোরা সবাই  কি পেয়েছিস আমাকে?তোর বান্ধবী  বিয়ের আগের দিন পালিয়ে গেছে, ওর যদি আমাকে বিয়ে করতে এতো সমস্যা তাহলে বিয়ে ঠিক হওয়ার আগে কেনো পালালোনা?তার পর সবাই মিলে কি করলো তোর মতো একটা বাচাল মেয়েকে আমাকে বিয়ে করতে বললো। আমি আর ভাবতে পারছিনা জাস্ট পাগল হয়ে যাবো। জিহাদ ভাই চিল্লিয়ে কথা গুলো বলে একটু চুপ থেকে আমার দিকে তাকায় আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে আবার চেচিয়ে উঠে  -এই তুই চুপ করে আছিস কেনো?এমনিতে তো বক বক করে সবাইর কানের পোকা মেরে ফেলিস, আচ্ছা সত্যি করে বলতো তুই এখানে কোনো কারসাজি করিস নাই তো তোর বান্ধবী সহ মিলে? জিহাদ ভাইয়ের কথা শুনে আমার দর দর করে ঘাম বের হতে থাকে।ভিতরে ভয় থাকলে ও নিজেকে সামলে নিয়ে বলি -কি যা-তা বলছেন আমি কিসের কারসাজি করবো? আমি তো গায়ে হলুদেই যাইনি।ওর কার সাথে সম্পর্ক আছে আমি সেটা ও জানিনা। আর বিয়ে কি আপনাকে আমি ইচ্ছে করে করছি?আমি বাচাল কথা বেশি বলি দুস্টামি করি কিন্তু বড়দের সম্মান করি,তাই বাবা আর ফুপ...