তুমি এসেছো বলে

মারিয়া আমার দিকে ভ্রু কুচকে বেশ অনেকক্ষন ধরে তাকিয়ে আছে ,অবশ্য সে আমার উপর রেগে আছে তা আমি বেশ বুঝতে পারছি কিন্তু কিছু বলছি না । কেননা আমি চাচ্ছি সে আরো একটু রেগে যাক। বেশি রাগলে রাগ থামানো সহজ হয়, অল্প রাগে ভালোবাসা,অভিমান,রাগ,সোহাগ,আল্লাদ টা বেশি থাকে তাই সেই রাগ টা ভাঙ্গানো আমার জন্য বেশ কষ্টসাধ্য  ।আমি পকেট থেকে তার সবচেয়ে অছন্দের সিগারেট টা বের করে ধরিয়ে দিলাম, এখন সে ফুসছে রাগে । ঠিক তার পর পর ই রাস্তা দিয়ে যাওয়া একটা মেয়ে কে দেখে বললাম 
- হেই মিস ! আপনাকে কিন্তু হলুদ শাড়ীতে অসাধারণ লাগবে তা কি আপনি জানেন ?
- আমাকে বলছেন ?
- আশেপাশে হলুদ সুন্দরী তো আপনি একাই আছেন। 
- এটা ছিল র্ফ্লাট ছিল ?
- যদিও জটিল প্রশ্ন কিন্তু সহজ উওর ।
- তা সেই উওর টা কিহ !
- আমার উওর শুনে হলুদ সুন্দরী আরো বেশি ই হলুদ হয়ে যেতে পারে তাই না বলাই শ্রেয় ।
- উম, ইন্টারেস্টিং !!!!!
হঠাৎ পাশ থেকে মারিয়া চিৎকার করে বলে উঠলো
- এই মেয়ে এই যান তো এখান থেকে, বেয়াদব কোথাকার ।
- আপনি কে আর এমন করে কথা বলছেন কেন ! আমি তো আপনাকে কিছু বলি নি ।
- তুই যাবি নাকি আমি তোরে মেরেই ফেলবো
এতটুকু বলতে বলতে মারিয়া মেয়েটার দিকে তেড়ে যেতে লাগলো আর আমি খপ করে তার হাতটা ধরে ফেললাম। বেশ মারমুখো হয়ে আছে মেয়েটা । যেই না আমি কিছু বলতে যাবো পর পর আমার গালে বেশ কিছু ঢোলের শব্দ হয়ে গেল ।
- তোর হলুদ সুন্দরী লাগবে তাই না ? কই আমাকে তো আজ পযন্ত বলিস নি যে কোন শাড়িতে আমায় সুন্দর লাগে । মেয়ে দেখলে একদম জল গড়িয়ে পড়ে তাই না ?
- এসব নাউজুবিল্লাহ র্মাকা কথা বলো না তো । আমি শুধু……
- তোরে মাইরা ফেলবো ইমু আমি ।
- ব্রেকিং নিউজ” প্রেমিক কে নিজ হাতে খুন করলো মারিয়া নামের প্রেমিকা “
- তুই যা আমার সামনে থেকে, যা তো !!!!!!
মারিয়া রাস্তার ধারে বসে হাটুতে মাথা রেখে কান্না করতে লাগলো। তারমানে এখন রাগ টা কমানো যাবে ।মেয়েটার হাতে শক্তি আছে বেশ ,গালটা লাল হয়ে আছে  আমার । বাসায় গিয়ে মোভ দিতে হবে ।আমি আস্তে করে তার পাশে বসে পড়লাম ,অবশ্য মেয়েটা বেশ সেনসেটিভ । প্রচুর ভালোবাসে আমায় তাই কিছু থেকে কিছু হলেই কান্না ।
- মারিয়া শুনো !! 
-  কথা বলবি না তুই আমার সাথে  ।
- আচ্ছা কেউ যদি আমায় তুই করে বলে আর কথা না বলে তাহলে কি আর করার । থাক বললাম না ।
- খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু ইমু ।
- আচ্ছা সরি বেবি ।
- ওই মেয়েটার সাথে কেন কথা বলবা তাহলে ?
- আচ্ছা সরি বললাম তো ।
- তুমি আমায় কাদিয়েছা ।
- আচ্ছা আর করবো না ।প্র্রমিস ।
- এই নিয়ে ২১৩ বার প্রমিস করছো ।
- প্রমিস করেই তো ভাঙ্গার জন্য সোনা ।
- তারমানে তুমি আবারো এমন করবা ?
- দেখ! তালা আবিষ্কার হইছেই চুরে  ভাঙ্গার জন্য তাই না ?
- দেখ এসব বলে রাগাবানা আবার আমায় ।জড়িয়ে ধরো এখন ।
- আচ্ছা ।
- তুমি কেন সিরিয়াস হচ্ছ না আমায় নিয়ে বলো তো । কালকেও বাসায় জগড়া হয়েছে । প্রতিদিন ছেলে আসছে একটা করে আমায় দেখতে ।
- সালামি দিয়েছে ?
- ইমুউউউ…..
- নাহ্ ক্ষিধে পাইছে তো তাই ।
- তারমানে  সকালে খাও নি ?
- খেয়েছি ।
- বুঝেছি কি খেয়েছো ।এই সিগারেট খাইছো ।
তারপর টানতে টানতে সে আমায় একটা রেস্টুরেন্ট এ নিয়ে গেল। আমার পছন্দর খাতায় যা যা আছে তা অর্ডার করলো ।  আমিও বেশ তৃপ্তি নিয়ে তা  খেয়ে যাচ্ছি ।কখনো বা আড় চোখে তাকিয়ে দেখি সে মিটমিট করে হাসছে আর আমায় দেখছে ।তা দেখে আমি বললাম 
- যদি আমার পেট খারাপ হয় গো তাহলে তুমার খবর আছে ।
- কি করবে শুনি ?
- এমনি তে কিন্তু আজ মেরেছো আমায় ।
- আমার জিনিস যা খুশি করবো । বলেছিলাম না তুমি একান্তই আমার,শুধুই আমার ।
- আমি একটা ছেলের সাথে রাস্তায় দাড়িয়ে এমন করে কথা বলি তাহলে ??
- নাহহ 
- হ্যা, আমার বেলায় না আর নিজের বেলায় সব ।মেয়ে দেখলে হুস থাকেনা তুমার তাই না । 
- শুধু তুমায় দেখলে হুস থাকেনা ।
- হইছে পাম দিতে হবে না । খাও ।
আমি খাওয়া শেষ করে বাহিরে আসলাম আর মারিয়া বিল মিটাচ্ছে । বাহিরে এসেই টং দোকানে চোখ গেল ।পকেটে টাকা ও নেই আর সিগারেট ও নেই । খাবার খাওয়ার পর সিগারেট না খেলে কেমন যেন দুঃস্বপ্নের মতো লাগে আমার কাছে ।মারিয়াকে সিগারেটের কথা বলবো কিনা তা চিন্তা করছি । সে আমার পাশে এসে দাড়ালো আর হেটে হেটে টং দোকানে গিয়ে এক প্যাক সিগারেট নিয়ে এসে আমার হাতে দিয়ে বললো।
- একটু কমায়া খাও এটা কেমন ? না খেতে দিলে তো মুখের দিকে তাকানো যাবেনা তুমার ।
- ভালোবাসি !
- হ্যা, সিগারেট কিনে দিয়েছি তো তাই । সবই ধান্দা ।
আসলেই মেয়েটা আমায় একটু বেশিই বুঝে । আমরা আবারো একটা র্নিজন স্থানে বসে রইলাম ।মারিয়া হাতের আঙ্গুলগুলো চেপে ধরে বসে আছে ।
- ইমু প্লিজ কিছু করো না। বাসা থেকে আমায় বিয়ের জন্য পাগল করে তুলছে ।
- আমার এই জীবনে এসে বাঁচতে পারবে বুঝি ?আমি তো বেকার বাউন্ডুলে ।
- তুমি যেমন হোও তা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই। আমি শুধু তুমায় চাই ।
- আমায় না পেলে ?
- জানিনা কি হবে কিন্তু খুব খারাপ কিছু অবশ্যই হবে এটা মনে রেখ ।
হঠাৎ মারিয়ার মোবাইলে কল আসলো একটা । সে একটু দুরে গিয়ে কথা শেষ করে আমার পাশে এসে মন খারাপ করে বসলো ।
- বাসায় ছেলে এসেছে আরেকটা ।আম্মু যেতে বলছে আমায় ।
- চলে যাবে ?
- তুমার জীবন থেকে এত সহজে যাচ্ছি না । এখন যেতে হবে শুধুমাত্র বিয়েটা ভাঙ্গতে আর বাসায় জগড়া করতে ।
- আচ্ছা যাও ।
- ইমু আমি সত্যি ক্লান্ত হয়ে গেছি ,প্লিজ কিছু করো ।
- আচ্ছা ।
- দাড়াও একটা হাগ দিবো তোমায় ।
মারিয়া চলে গেছে প্রায় ২ ঘন্টার মতো হয়ে গেছে তবুও আমি ঠিক সেখানেই বসে আছি ।আমি জানিনা এত ভালোবাসাও যায় কাউকে ? অবশ্য সে আমার জীবনে না আসলে হয়তো আমি ভালোবাসার মানে ই পেতাম না । কিন্তু আমার করনীয় কি তা আমি এখন নিজেও জানি না ।মারিয়া আমায় বলেছিলো  যে একটা চাকরি যোগার করলে ই সে তার পরিবারকে মানিয়ে নিবে ।যে কোন চাকরি ।আসলে একটা ভালোবাসা পাবার পর আমি তাকে আর ছাড়তে পারবো না । সে জানে আমার কিছুই নেই, আমি শুন্য তবুও সে আমার হয়ে থেকেছে । এখনো পরিবারের সাথে লড়ে যাচ্ছে আমার জন্য । এখন না আমার ও মারিয়ার চোখে চোখ রেখে বলছে ইচ্ছে করছে 
” তোমার বিষাদগুলি করতলে তুলে নিতে দাও
ওষ্ঠপুটে রাখি।”
নাহ তাকে হারাতে দেওয়া চলবে না ,মোটেও না । সে সব রিজেক্ট করা চাকরি র অফার টা মনে হয় নিজের করে নিতে হবে । আসলে সে কি আসলেই বিশ্বাস করবে তাই বাউন্ডুলে প্রেমিক  একটা অফিসার পদে ? কি জানি !! হয়তো বেশ অবাক হবে তাকে না জানানোর জন্য আর বেশ মার ও খেতে হবে ।হঠাৎ করেই সে ফোন দিয়ে কান্না করতে লাগলো আর বলতে লাগলো 
- ইমু প্লিজ কিছু করো, আমার বাসা থেকে কালকের দিন পযন্ত সময় দিয়েছে ।প্লিজ ইমু কিছু একটা করো ।
- আচ্ছা 
এতটুকু বলে ফোনটা কেটে দিলাম আর ফোনটা বন্ধ করে দিলাম । অন্য একটা ফোন হাতে নিয়ে পরিবারের লোকদের জানিয়ে দিলাম যে কালকে আমরা মেয়ে দেখতে যাচ্ছি । যদিও সে এখন আমার ফোনে ট্রায় করবে আমার সাথে কথা বলার জন্য কিন্তু আজ থাক । মেয়েটাকে না হয়  আরেকটা খুব বেশিই কাঁদিয়ে নিই । কে জানে পরের সময়গুলোতে কান্না করার জায়গা হয়তো পাবে না ।কাদুক টা আজকের রাত্র টা এ পাগলের কথা ভেবে ।পিসি টা অন করে শেয়ার বাজারে ঢুকে দেখলাম আমার ৯ মাস আগে কেনা লস খাওয়া শেয়ার টা আজ হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছে ।এতই বেড়েছে যা শেয়ার বাজারের টপে রয়েছে আজকে । নাহ্ বিয়ে করবো যেহেতু তাহলে লাখপতি,কোটিপতি তো হওয়া ই যায় তাই না ?
বিছানায় গা টা এলিয়ে দিয়ে কালকের দিনের কথা টা চিন্তা করতে লাগলাম, মনে মনে ভাবতে লাগলাম মেয়েটা বেশ ভড়কে যাবে আমাকে দেখে তাই না ? হঠাৎ যানি পূর্ণেদু পত্রীর  একটা লেখা মনে পড়ছে  যেই কথোপকথন থেকেই শুরু আমাদের প্রেমটা 
– লোকে বলে শুনি সেলায়ে তোমার পাকা হাত
ছুঁচ দিয়ে লেখো কবিতা।
– গোয়েন্দা নাকি? আমার যা কিছু লুকানো
জানতে হবে কি সবই তা?
– তর্ক কোরো না জুড়ে দেবে কিনা এখুনিই
হৃৎপিন্ডের ক্ষতটা।
– দিতে পারি তবে মজুরি পড়বে বিস্তর
জোগাতে পারবে অতটা?
– কাজ যদি হয় নিখুঁত,পাবেই মজুরী,
ভেবেছো পালাবো গর্তে?
– হৃৎপিন্ডের ভিতরে থাকে যে ঝর্ণা
দিতে হবে স্নান করতে।
গল্প : তুমি এসেছো বলে 
শাহরিয়ার আহমেদ ( বাউন্ডুলে )

Comments