অন্যরকম ভালোবাসা

এসি রুমে বসে ও ঘামছি বুকের ভিতর টিপ টিপ করছে না জানি কি হয়।জিহাদ ভাই রুমে ডুকে আওয়াজ করে দরজা বন্ধ করে দেয়।আমি আরও ভয় পেয়ে যায়। জিহাদ ভাই আমার কাছে এসে বলে
-এই তোরা সবাই  কি পেয়েছিস আমাকে?তোর বান্ধবী  বিয়ের আগের দিন পালিয়ে গেছে, ওর যদি আমাকে বিয়ে করতে এতো সমস্যা তাহলে বিয়ে ঠিক হওয়ার আগে কেনো পালালোনা?তার পর সবাই মিলে কি করলো তোর মতো একটা বাচাল মেয়েকে আমাকে বিয়ে করতে বললো। আমি আর ভাবতে পারছিনা জাস্ট পাগল হয়ে যাবো।

জিহাদ ভাই চিল্লিয়ে কথা গুলো বলে একটু চুপ থেকে আমার দিকে তাকায় আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে আবার চেচিয়ে উঠে 
-এই তুই চুপ করে আছিস কেনো?এমনিতে তো বক বক করে সবাইর কানের পোকা মেরে ফেলিস,
আচ্ছা সত্যি করে বলতো তুই এখানে কোনো কারসাজি করিস নাই তো তোর বান্ধবী সহ মিলে?

জিহাদ ভাইয়ের কথা শুনে আমার দর দর করে ঘাম বের হতে থাকে।ভিতরে ভয় থাকলে ও নিজেকে সামলে নিয়ে বলি
-কি যা-তা বলছেন আমি কিসের কারসাজি করবো? আমি তো গায়ে হলুদেই যাইনি।ওর কার সাথে সম্পর্ক আছে আমি সেটা ও জানিনা। আর বিয়ে কি আপনাকে আমি ইচ্ছে করে করছি?আমি বাচাল কথা বেশি বলি দুস্টামি করি কিন্তু বড়দের সম্মান করি,তাই বাবা আর ফুপুর কথা ফেলতে পারিনি।

আমার কথা শুনে জিহাদ ভাই চুপ করে  ঘরময় পায়চারি করতে থাকে আর রাগে ফুঁসে ওঠে। ওর ধারণা নিলা(আমার বান্ধবী) পালিয়ে গিয়ে ওনাকে ছোট করছেন নিলা ওনাকে নিলার অযোগ্য প্রমাণ করছেন।ওনাকে এভাবে রাগে ফুঁসে দেখে আমিও চুপ করে বসে থাকি যেটা আমার স্বাভাবের বিপরীত।

অনেকক্ষণ বসে থাকার পর ঘুমে ঢুলতে থাকি। জিহাদ ভাইয়ের দিকে  তাকিয়ে দেখি ওনি আামর দিকে তিক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি ওনার তাকানো দেখে একটা ঢোক গিলে চুপচাপ  শুয়ে পড়ি। 

__________

সকালে ঘুম থেকে ওঠে নামাজ পড়ে নিচে গিয়ে দেখি আমার শাশুড়িমা(ফুপু) কিচেনে কি যেনো করছে।আমাকে দেখে হেসে বলে 
-কিরে ওঠে গেলি?
আমিও হেসে বলি
-হুম,কি করছো ফুপু?

জিহাদের জন্য কফি বানাচ্ছি জিহাদ তো নামাজ পড়ে কফি খাই।
আমি মনে মনে
-সেটা আর বলতে তোমার ছেলের ব্যাপারে আমার থেকে বেশি আর কে জানে।
 ফুপু কফি নিয়ে যেতে গিয়ে আবার আমার দিকে ফিরে বলে 
-অর্থি কফিটা আজকে তুই নিয়ে যা এখন থেকে তো জিহাদের সব কিছু তুই করবি।

আমি শুকনো ঢোক গিলে কফি নিয়ে রুমে দিকে যায়,না জানি রাতের মতো এখনো কি না কি বলে।
রুমে গিয়ে দেখি জিহাদ ভাই সোফায় বসে মোবাইল গুতাচ্ছে। আমি চুপিচুপি কফিটা টেবিলে রেখে দৌড় দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছি সে মুহূর্তে জিহাদ ভাই আমার হাত ধরে বলে
-এরকম তাড়াহুড়ো করছিস কেনো?এখানে বস তোর সাথে কথা আছে।

জিহাদ ভাই আমার হাত ধরাতে আমার জান পাখি বেরিয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু ওনার কথা শুনে একটু স্বস্তি পাই।তবুও ভয়ে ভয়ে বসি না জানি কি কথা বলে।
ওনি একটা দীর্ঘশ্বাঃস ফেলে বলে
-কাল সাররাতে ভাবলাম তোর এখানে কোনো দোষ নেই শুধু শুধু তোকে বকলাম। কিন্তু নিলা এরকম কেনো করলো বলতো?ওকে তো বিয়েতে জোর করে রাজি করাইনি তাহলে?
জিহাদ ভাইর কথা শুনে আমি চুপ করে বসে থাকি  
 ওনিও কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে
-সরি
আমি চমকে ওনার দিকে তাকাই 

আমাকে এভাবে তাকাতে দেখে ওনি ভ্রু নাচিয়ে বলে
-কিরে কি হয়েছে তোর? কাল থেকে চুপচাপ হয়ে আছিস তুই তো এরকম চুপচাপ থাকিস না?

আমি ওনার কথা শুনে হাসার চেষ্টা করি আর মনে মনে বলি
-আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন জিহাদ ভাই, এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলোনা। আপনাকে আমি অনেক ভালোবাসি কিন্তু কখনো বলার সাহস পাইনি।ফুপু যখন আপনার সাথে নিলার বিয়ে ঠিক করে তখন আমার আর নিলার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। নিলা সৌরভ ভাইকে ভালোবাসে কিন্তু আংক্কেল কে বলতে পারেনি তার আগে আপনার সাথে নিলার বিয়ে ঠিক করে ফেলে।তাই আমি আর নীলা একটা প্লান তৈরী করি।ও বিয়েতে রাজি হবে তারপর বিয়ের আগের দিন সৌরভ ভাইর সাথে পালিয়ে যাবে।যেহেতু আমাদের পরিবারে  আমার বড় আর কোনো কাজিন বোন নেই আমার চান্স আছে। ঠিক তাই হলো আমার সাথে আপনার বিয়ে হয়ে গেলো। এখন কেমন যেনো অপরাধ বোধ লাগছে কিন্তু আমি কি করবো আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি আপনাকে কখনো এ কথা গুলো বলতে পারবোনা।

মোবাইলে টুং আওয়াজে ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসি।দেখি আমার মোবাইলে নিলার মেসেজ আমি তারাতাড়ি মেসেজ ওপেন করে দেখি
নিলা লিখছে
"কিরে অর্থি ওইদিকের খবর কি?জিহাদ ভাইকি তোকে বকাবকি করছে?বাবা আমার কথা কি বলছে?কিছু তো বল?
 ও চিন্তা  করছে দেখে তারাতাড়ি আমি ও লিখি
যে এদিকের সব ঠিক আছে কোনো সমস্যা নেই আংক্কেল ও ওকে মেনে নিবে ওনার ধারণা বিয়ের আগে মেয়ের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার উচিত ছিল। 
তারপর মোবাইল রেখে জিহাদ ভাইর দিকে তাকিয়ে দেখি ওনি এক মনে ল্যাপটপে কি যেনো করছে।আমি মুচকি হেসে ওনার দিকে তাকিয়ে থাকি। 

____________সমাপ্ত ___________

,,অনুগল্প 
,,অন্যরকম ভালোবাসা 
,,জিনাত আফরোজ

Comments