Posts

দুই মানচিত্রে তুমি আর আমি

Image
সন্ধ্যার দিকে বাড়ির মেইন গেট খুলে ভিতরে পা বাড়াতেই, আমার পা যেন কোনো উঁচু কিছুর উপর পড়লো। আমি সাথে সাথেই পা 'টা সরিয়ে নিলাম। দরজা একটু সরিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখি দিয়া দাঁড়িয়ে আছে। দিয়া আমার দিকে না তাকিয়ে একটু সরে, ওর ঘাড় কাঁত করে আমার পিছনের দিকে তাকালো। কয়েক সেকেন্ড তাকানো শেষে আমাকে বলে "চাচা তোকে এত বারণ করে, তবুও লুবানার সাথে কেনো মিশিশ? জানিস না মেয়েটা কত খারাপ।" আমি দিয়ার দিকে তাকালাম। দিয়ার কোনো কাজ নেই, সারাদিন আমাদের বাড়িতে এসে বসে থাকবে। আমাকে শাষন করার এক বিশাল আগ্রহ দিয়ার মাঝে পরিলক্ষিত হয় সেটা বাড়ির সবাই জানে। আমি দিয়ার কথার কোনো উত্তর দিলাম না। পিছনে ঘুরে তাকালাম। লুবানা এখনো গলি বরাবর হেঁটে যাচ্ছে। সামনেই একটি বাঁক। বাঁক পার হলে লুবানাকে আর দেখা যাবে না। বাঁকের কাঁছাকাছি এসে লুবানা থেমে দাঁড়ালো। আমার দিকে ঘুরে, একটু মুচকি হেসে, হাঁত উঁচু করে বিদায় জানিয়ে, ওখান থেকে চলে যায়। আমি সামনে ঘুরলাম। আমার সামনে তখনো দিয়া স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি বললাম "এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো? কিছু বলবি?" দিয়া একটু কড়া দৃষ্টিতে তাকালো। সুন্দরী মেয়েদের রাগি দৃষ্ট...

তোমার আমার উপলব্ধি

Image
রাত এগারোটার দিকে উত্তরার ভাড়া বাড়ির সামনে বয়ফ্রেন্ড তামিমের বাইক থেকে নামলো রুমানা। পাঁচ দিনের কক্সবাজার ভ্রমণ শেষ করে তারা মাত্রই ঢাকায় ফিরেছে।  বাইক থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তামিম বললো,  - এভাবে আর কতো রুমানা? এবার বিয়েটা তো করে ফেলা দরকার তাই না?  দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল রুমানা, দুই বছর আগে দাদা-দাদী ইমোশনাল কথাবার্তা বলে তাকে গ্রামের একটা ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিল। ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বিপদে পড়েছিল রুমানা। মা-বাবা হারা এই নাতনীকে তারা বিয়ে দিয়েছেন পাশের গ্রামের সবচেয়ে ভদ্র ছেলে মামুনের সঙ্গে। মামুন পড়াশোনা শেষ করে সেই গ্রামের মধ্যেই একটা স্কুলে শিক্ষকতা করে।  রুমানাে দাদার ছাত্র ছিল মামুন। ছোটবেলায় বাবা মা মারা যাবার পর গ্রামের মধ্যে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করে রুমানা৷ তারপর ঢাকা এসে ভর্তি হয়েছে অনার্সে। এরপর থেকে জীবন যাত্রার মান অবনতি ঘটেছে রুমানার। দাদা-দাদীর ধারণা ছিল বিয়ে হলে মোটামুটি ঠিক হয়ে যাবে।  কিন্তু রুমানা বেশ চতুর। দাদা-দাদীর কথার কাছে পরাজিত হয়ে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যায়। আর বিয়ের সপ্তাহ খানিক পরেই কৌশলে শহরে চলে আসে রুমানা। দাদ...

বদলি

Image
বদলি👥 পৃথিবীটা খুব ছোট, ঘুরতে ঘুরতে কখনো কখনো এমন কিছু জায়গায় আমরা এসে পড়ি, যেখানে অন্তরআত্না কখনোই যেতে চায় না।  মানুষকে তো পিছে ফেলে চলে আাসা যায় আচ্ছা স্মৃতি কেনে ফেলে আসা যায় না? শহর টা আমার প্রাক্তন প্রেমিকার। চাকরি সুত্রে দীর্ঘ সাত  বছর পরে আবার ও ফিরে আসা। স্কুল কলেজ সহ জীবনের দীর্ঘ একটা অধ্যায় কেটেছে এই শহরে। অলি-গলির প্রতিটা রাস্তার ধুলোয় আজো আমার আর নীলার পদছায়া বিলীন হয় নি। কত স্মৃতি এখানেই আমাদের সেই আমাকে কি না বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হলো? 'প্রিয় আকাশনীলা;তুমি হয়তো জেনে খুশি হবে আমি তোমার শহরে আগন্তুক হয়ে আবারো ফিরে এসেছি'  দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ডেক্সে বসে কেস নাম্বার ১০৫ ওপেন করলাম।  এটেম্প টু মার্ডার কেস এর মামলা, যেটা একজন স্বামী তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্য করেছে । বেশ অবাক হলাম মেডিকেল সার্টিফিকেটে স্পষ্ট লেখা ৩মাসের বাচ্চাটার নিউমনিয়ায় মৃত্যু তবুও কি করে এমন অভিযোগ কেউ আনতে পারে? কেসটা দমে না টিকলেও চার্জশিট এই মূর্হতে আমার হাতে। অপমৃত্যু'র কেস দিলেও তা হয়তো মানা যেতো কিন্তু সরাসরি মার্ডার কেস এনেছে জানাব সিহাব তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।  মামলার তদন্ত স্বার...

ভুল সিদ্ধান্ত

Image
১৩-০৭-১৯৯৭ শাশুড়ী আম্মা আমার হাতটা ধরে বললেন,  - মানুষের সংসারে এমন রাগারাগি হয়েই থাকে, তাই বলে নিজের সংসার ছেড়ে কেউ চলে আসে বৌমা?  - আম্মা আপনি সবকিছু জানেন না তাই এভাবে কথা বলতে পারেন, কিন্তু আমার পক্ষে সত্যি আর সম্ভব না।  - আমি নিজে থেকে তোমাকে নিতে আসছি, তুমি কি যাবে না আমার সঙ্গে?  - আম্মা আমি আপনাকে নিজের মায়ের মতো সম্মান করি, আপনার কথার অবাধ্য হবার শক্তি নেই। কিন্তু এমন কোনো কথা বলবেন না যেটা রক্ষা করা আমার দ্বারা অসম্ভব। তাহলে মনে মনে আমিও কষ্ট পাবো, আর আপনি ও আঘাত পাবেন। - তোমাদের আসল সমস্যাটা কি জানতে পারি?  - আপনার ছেলের কাছেই জেনে নিয়েন, অন্তত এটুকু জেনে রাখতে পারেন যে আমি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে স্বামী সংসার ত্যাগ করিনি।  - আল্লাহ তোমাদের একটা ছেলে দিয়েছে, নাতিটার মুখের দিকে তাকিয়ে নাহয় ফিরে চলো।  - ওকে আমি নিজেই মানুষ করতে পারবো আম্মা। আপনার যখনই দেখতে ইচ্ছে করবে আপনি চলে আসবেন। আর বড় হলে আপনার নাতি নিজেও গিয়ে আপনাদের বাড়িতে ঘুরে আসবে।  - তুমি কি সত্যিই আর কোনদিন যাবে না?  - না আম্মা।  - আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে আমি এখন যাই। বাড়িতে গ...

কাঁদা মাখানো লাল জামা

Image
বস্তি থেকে বের হবার সময় মরিয়মের দিকে তীব্র লালসার চোখে তাকিয়ে থাকে দোকানদার আজমল। স্বামী ছাড়া মরিয়মের উপর তার নজর অনেক দিন আগে থেকে নিবদ্ধ। কিন্তু মরিয়ম তাকে একদমই পাত্তা দেয় না বরং সবসময় তাকে এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করে।  - কি ব্যাপার মরিয়ম কোই যাও?  চুপচাপ হাটে মরিয়ম। তারপর আজমল আবার বলে,  - বাসায় কাজ করতে যাও বুঝি? তোমাকে তো কতবার বললাম আমার ঘরে আসো, বাসায় আর কাজ করতে হবে না। তোমার মেয়ে আর তোমার দুজনের দায়িত্ব আমি নেবো।  কোনকিছু না বলে চুপচাপ হেঁটে চলে যায় মরিয়ম। সে জানে এই লোকের সঙ্গে কথা বলার কোনো অর্থ নাকি। সবসময় এমন করে কথা বলা লোকটা অভ্যাস করে ফেলেছে।  ★★ থালাবাসন সবগুলো ধোয়া শেষ করে মরিয়ম তার মালিকের কাছে গিয়ে বললো,  - আপা আমি তাহলে আসি? "  কর্ত্রী একটা প্যাকেট হাতে দিয়ে বললো, - তোমার মেয়েকে ঈদের দিন পরতে দিও, বাচ্চা মানুষ খুব খুশি হবে।  মরিয়মের চোখ উজ্জ্বল হয়ে যায়। সে জানে যে গতকাল এরা সবাই শপিং করেছে, কিন্তু তার মেয়ের জন্য কিছু কিনে আনবে ভাবতে পারেনি। মরিয়ম এ বাড়িতে কাজ করে মাত্র মাস খানিক ধরে। এর আগে অন্য বাড়িতে কাজ করতো।  আনন্দ নিয়ে সে...

ভালো থেকো

Image
- চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আমার স্বামী বললো, বিয়ের পূর্বে তোমার বয়ফ্রেন্ড ছিল আগে বলোনি তো। তাও আবার তিন বছরের কঠিন প্রেম, আচ্ছা তুমি তাকে রেখে আমাকে বিয়ে করলে কেন?  আমি তখন কি বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে আবার মাথা উঁচু করে তার দিকে তাকিয়ে দেখি সে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে। মাত্র তিনমাস আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে, আমি চাইনি আমার অতীত সে জানুক। এর প্রধান কারণ ছিল, যে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে ইচ্ছে ছিল না।   আমি আস্তে করে বললাম,  - আমার কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি তাই আর বলিনি, তাছাড়া আপনি প্রথম রাতেই বলেছিলেন যে জীবন নতুন করে শুরু করেছি। তাই সবকিছু যেন নতুন করে ভাবতে পারি।  - আচ্ছা সমস্যা নেই, আজকে হঠাৎ করেই জানতে পারলাম তাই তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম। এসব নিয়ে আর কথা না বলাই ভালো।  - ঠিক আছে।  - তোমার হাতের কাজ শেষ হয়েছে?  - হ্যাঁ।  - তাহলে ফ্রেশ হয়ে আসো ঘুমিয়ে পড়ি। আগামীকাল সকালে সাতটার দিকে তুলে দেবে, জরুরি একটা কাজ আছে হাসপাতালে।  - আপনি তো ফজরের নামাজ পড়ে হাঁটতে বের হন, কালকে হয়তো হাঁটতে হাঁটতেই সাতটা বেজে যাবে।...

তুমি এসেছো বলে

Image
মারিয়া আমার দিকে ভ্রু কুচকে বেশ অনেকক্ষন ধরে তাকিয়ে আছে ,অবশ্য সে আমার উপর রেগে আছে তা আমি বেশ বুঝতে পারছি কিন্তু কিছু বলছি না । কেননা আমি চাচ্ছি সে আরো একটু রেগে যাক। বেশি রাগলে রাগ থামানো সহজ হয়, অল্প রাগে ভালোবাসা,অভিমান,রাগ,সোহাগ,আল্লাদ টা বেশি থাকে তাই সেই রাগ টা ভাঙ্গানো আমার জন্য বেশ কষ্টসাধ্য  ।আমি পকেট থেকে তার সবচেয়ে অছন্দের সিগারেট টা বের করে ধরিয়ে দিলাম, এখন সে ফুসছে রাগে । ঠিক তার পর পর ই রাস্তা দিয়ে যাওয়া একটা মেয়ে কে দেখে বললাম  - হেই মিস ! আপনাকে কিন্তু হলুদ শাড়ীতে অসাধারণ লাগবে তা কি আপনি জানেন ? - আমাকে বলছেন ? - আশেপাশে হলুদ সুন্দরী তো আপনি একাই আছেন।  - এটা ছিল র্ফ্লাট ছিল ? - যদিও জটিল প্রশ্ন কিন্তু সহজ উওর । - তা সেই উওর টা কিহ ! - আমার উওর শুনে হলুদ সুন্দরী আরো বেশি ই হলুদ হয়ে যেতে পারে তাই না বলাই শ্রেয় । - উম, ইন্টারেস্টিং !!!!! হঠাৎ পাশ থেকে মারিয়া চিৎকার করে বলে উঠলো - এই মেয়ে এই যান তো এখান থেকে, বেয়াদব কোথাকার । - আপনি কে আর এমন করে কথা বলছেন কেন ! আমি তো আপনাকে কিছু বলি নি । - তুই যাবি নাকি আমি তোরে মেরেই ফেলবো এতটুকু বলতে বলতে মারিয়া মেয়েটার...