বিয়ে হচ্ছে

-ওদিকটায় যাবেন না।
-কেন?
-ওদিকের রেলিংটা ভাঙা।পড়ে যেতে পারেন।
-পড়ে গেলে আপনি ধরবেন না?ধরবেন না আমাকে?
-ধরাবো।যান।
   মিহিনের কথায় আমি আর কিছু বলি না।মুচকি হেসে অন্যদিকে পা বাড়াই।মিহিনও আসে,আমার সাথে।একটু এগিয়ে আস্তে করে বলি,
-এদিকটার রেলিং ঠিকঠাক?
আমার কথায় মিহিন মুচকি হাসে।মাথা নাড়িয়ে বলে,
-হু ঠিকঠাক। 
  দুজনের মাঝে আবারও নীরবতা।ঝিরিঝিরি বাতাসে শীতের স্পন্দন।যেন ডাকছে নতুন জায়গায়, নতুন আবহাওয়ায়।এই ঝিরিঝিরি বাতাসের মাঝেই মিহিন নীরবতা ভেঙে বলে,
-মনে হচ্ছে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছেন আমাকে?
মিহিনের কথায় আমি নরম গলায় বলি,
-কিভাবে বুঝলেন?
-মেয়ে দেখতে এসে কেও এভাবে চুপচাপ থাকে আমি কখনও দেখিনি।ছেলে মেয়েকে আলাদা কথা বলতে দেওয়া হয় তাদের নিজস্ব কিছু আলাপ আলোচনার জন্যেই।এই যেমন আমি আর আপনি। দাঁড়িয়ে আছি।দুজন অচেনা মানুষ।অজানা কিছু জানতে।

  মিহিনের কথায় আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি।নরম গলায় বলি,
-আপনার বয়ফ্রেন্ড আছে?
আমার প্রশ্নে মিহিন আমার দিকে ভ্রু কুচকে তাকায়।একটু চুপ থেকে আস্তে করে বলে,
-মেয়ে দেখতে এসে এসব প্রশ্ন কেও করে!জানা ছিল না।
-আজ তো জানলেন।
-হু।
-বলুন তাহলে।
-হ্যা, আছে।
  মিহিনের কথায় আমি কি বলবো ভেবে পেলাম না।উত্তরটা না হওয়ার আশাতে মেয়েটা জল ঢেলে দিলো।অবশ্য এত সুন্দরী মেয়ের যে বয়ফ্রেন্ড থাকবে না এটা শুনলেও কেও বিশ্বাস করতো না।আবার সব সুন্দরী মেয়েদেরই যে বয়ফ্রেন্ড থাকে তেমনও না।আমি আরও কিছুক্ষন চুপ থেকে মিহিনের দিকে তাকিয়ে বলি,
-তার মানে বিয়েটা এবার ভেঙে দিতে হবে।
-কিভাবে?
-বলবো মেয়ে পছন্দ হয়নি।
  আমার কথায় মিহিন আমার দিকে একটু ঝুকে এসে বলে,
-আপনি কি ভেবেছেন এই কথা তারা বিশ্বাস করবে?
 মিহিনের কথায় আমি আবারও ভাবনায় পড়ে যাই।অন্য কেও বিশ্বাস করবে কি করবে না সেটা জানিনা।আমি নিজেই এটা বিশ্বাস করতে পারছি না।তবে বিয়েটা ভাঙাও জরুরী।আমার জন্যে একটা সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে সেটা আমি চাই না।চাচ্ছি না।আমি আরও একটু চুপ থেকে বলি,
-প্লান আরেকটা আছে।এটা করলে নিশ্চিত বিয়ে ভেঙে যাবে।তবে কাজটা আপনাকে করতে হবে।
-কি কাজ?বলুন, শুনি।
-আপনি নিচে গিয়ে বলবেন, ছেলে চশমা ছাড়া কিছু দেখে না।এরকম ছেলেকে বিয়ে করার চেয়ে গলায় কলসি বেধে ডুবে মরা ভাল।ব্যাস,কাজ হয়ে যাবে।

  আমার কথায় মিহিন আবারও আবার দিকে ভ্রু কুচকে তাকায়।কাপা গলায় বলে,
-আপনি সত্যিই চশমা ছাড়া কিছু দেখেন না?
-উহু।
-দেখি দেখি চশমাটা দেন তো। 
কথাটা বলতে বলতেই মিহিন আমার চোখ থেকে চশমাটা নিতে নিতে বলে,
-এবার বলেন তো ওই দিকের বিলবোর্ডে কি লেখা আছে?
মিহিনের কথায় আমি কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলি,
-দেখতে পাচ্ছি না।
আমার কথায় মিহিন হুট করেই হেসে ফেলে।আস্তে আস্তে যেন সেটা বাড়তেই থাকে।এই বাড়তে থাকার মাঝেই মিহিন আমাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বলে,
-বিলবোর্ড ওদিকে না,এইদিকে।
 কথাটা বলতে বলতে মিহিন আবারো হাসে।খিলখিলিয়ে হাসে।আমার চোখে চশমাটা পড়িয়ে দিতে দিতে বলে,
-এসবের দরকার নেই।আমার কোন বয়ফ্রেন্ড নেই।এমনিতেই বলেছিলাম।
-তবুও মনে হচ্ছে এই বিয়েটা হবে না।
 আমার কথায় মিহিন হাসি থামিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলে,
-কেনো,কেনো হবে না?
-এবার তো আপনি জেনেই গেলেই চশমা ছাড়া আমি কিছু দেখি না।জেনেশুনে এরকম কাউকে কেও বিয়ে করবে না। চলুন সবাই অপেক্ষা করছে।
 কথাটা বলে আমি আর দাড়াই না।হাটা দেই নিচের দিকে।এর মাঝেই মিহিন আমার পাশে এসে দাঁড়ায়।ফিসফিসিয়ে বলে,
-আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে।আর বিয়েটাও হচ্ছে।হ্যা হচ্ছে। 
 কথাটা বলে মিহিন আমার আগেই পা বাড়িয়ে নিচে দিকে নেমে যায়।আমি দাঁড়িয়ে থাকি সিড়ির কোনে।মেয়েটা নিচে নেমে আমার দিকে আবারও তাকায়।মুচকি হেসে জানান দেয় পছন্দ হুটহাট করেই হয়ে যায়,আয়োজন করে নয়।মিহিনের মুচকি হাসিতে আমার ঠোটের কোনেও মুচকি হাসি দেখা যায়।এ মুচকি হাসিও মিহিনের সেই কথাটাই বলে,
  হচ্ছে,বিয়েটা হচ্ছে।
.
(বিয়েটা হচ্ছে)
.
লেখায়, Abdul Ahad

Comments